জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মজুদ আবিষ্কারে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর একটি স্থাপন করেছে ইতালির এনার্জি জায়ান্ট ইনি। খনিজ অনুসন্ধানে এ প্রযুক্তি প্রচলিত ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করবে বলে মন্তব্য কোম্পানিটির, যা তাদের ডিকার্বনাইজেশন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কৌশলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর ইউরো নিউজ।
প্রায় ১০ কোটি ইউরোর বেশি ব্যয়ে নির্মিত এ সুপারকম্পিউটারের নাম এইচপিসি সিক্স। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং অত্যন্ত জটিল হিসাবনিকাশ করতে সক্ষম। এসব কাজ সম্পাদন করতে এ কম্পিউটারে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার গ্র্যাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উদ্যোগটি ইনিকে বিপুল পরিমাণ ডাটা বিশ্লেষণ এবং নতুন জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মজুদ শনাক্তে সাহায্য করবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও ডিকার্বনাইজেশনের হিসাবনিকাশেও সহায়তা করবে।
সাধারণত ড্রিলিং অপারেশন, সিসমিক জরিপ ও রিজার্ভ সিমুলেশনের মাধ্যমে খনি সম্পর্কিত ডাটা সংগ্রহ করা হয়। জ্বালানি সংস্থাকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মজুদের সঠিক অবস্থান, মজুদের পরিমাণ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সেরা ড্রিলিং কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে সুপারকম্পিউটার। এটি কূপের অবস্থান, উৎপাদন পূর্বাভাস, উন্নত জ্বালানি তেল আবিষ্কার এবং রিজার্ভ সিমুলেশনের ক্ষেত্রেও সাহায্য করে।
ইনি এরই মধ্যে সুপারকম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্বন সংরক্ষণের জন্য তরল প্রবাহ এবং ভূতাত্ত্বিক বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি শিল্পকারখানার কার্যক্রম ও ব্যাটারি উন্নয়নে সহায়তা করেছে। সুপারকম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানির বায়োফুয়েল সরবরাহ চেইন আরো কার্যকর হয়েছে।
ইতালির লোম্বার্ডি অঞ্চলে গত বড়দিনে এইচপিসি সিক্স চালু হয়েছে। কম্পিউটারবিষয়ক বার্ষিক তালিকা টপ ফাইভ হানড্রেডে এটি বিশ্বের পঞ্চম দ্রুততম সুপারকম্পিউটার।
সুপারকম্পিউটারের ব্যবহারের মাধ্যমে বাজারে ইনির খ্যাতি আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে প্রতিবেদনে। কারণ কোম্পানিটি অন্য কোনো পক্ষের ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবা কেনার পরিবর্তে নিজস্ব মেশিন ডিজাইন ও তৈরি করার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ইনির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্লাউডিও ডেসকালজি কোম্পানির ওয়েবসাইটে বলেন, ‘উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন জ্বালানি রূপান্তরে ইনির নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আরো দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়, কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং নতুন সমাধান তৈরিতে সহায়তা করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবসায়িক চেইনে সুপারকম্পিউটিং যোগ করেছি, যা নিট জিরো কার্বন লক্ষ্য অর্জন এবং মূল্য তৈরি করার জন্য একটি অপরিহার্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ইনি একটি অনন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রোগ্রামিংয়ের ঐতিহ্য বিকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।’